Google search engine

ফুটবলের ঝলমলে রাতেই বেজে উঠলো বিদায় ঘণ্টা। তিনবারের ইউরো চ্যাম্পিয়নকে বিদায় করে দিলো স্পেন। আর এই ম্যাচই টনি ক্রুসের ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ হয়ে থাকলো। আগেই জানা ছিল, এবারের ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ দিয়েই ক্যারিয়ারের ইতি টানবেন জার্মানির তারকা ফুটবলার টনি ক্রুস। তবে সেই সময়টা যেন একটু তাড়াতাড়িই চলে এলো।

শুক্রবার (৫ জুলাই) দিবাগত রাতে ইউরোরর কোয়ার্টার ফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হয়েছিল জার্মানি। রোমাঞ্চকর ম্যাচে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেছে স্বাগতিক জার্মানি। আর জার্মানির বিদায়ে শেষ হয়ে গেল টনি ক্রুসের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারেরও।

টনি ক্রুসের রিয়াল মাদ্রিদ সতীর্থ স্প্যানিশ ফুটবলার হোসেলু আগেই ঘোষণা দিয়ে রেখেছিলেন যে, এই ম্যাচই ক্রুসের শেষ ম্যাচ। ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে হোসেলু বলেছিলেন, ‘এটা খুবই দুঃখজনক যে টনি ক্রুসকে এভাবে বিদায় দিতে হবে আমাদের। আশা করছি এই ম্যাচটি আমরা জিতবো, আর এটিই হবে টনির শেষ ম্যাচ। আমি তাকে ভালোবাসি, তার ভালো চাই, কিন্তু আমি মনে করি শুক্রবারই (৫ জুলাই) তার শেষ ম্যাচ।’

২০১০ সালের ৩ মার্চ, বায়ার্ন মিউনিখের বিখ্যাত মাঠ আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় আর্জেন্টিনার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচের ৬৭ মিনিটে টমাস মুলারের বদলি হিসেবে মাঠে নামেন টনি ক্রুস। সেখান থেকেই শুরু হয় তার ফুটবল ক্যারিয়ারের। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে হয়ে ওঠেন মাঝমাঠের ভরসার প্রতীক। সেই থেকে শুরু করে শুক্রবার (৫ জুলাই) খেললেন ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ।

চলতি বছরের মে মাসেই তিনি জানিয়েছিলেন তার অবসরের খবর। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে সবশেষ মৌসুম শেষ করার পরেই ঘোষণা দিয়েছিলেন ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ শেষেই ফুটবল থেকে বিদায় নেবেন তিনি। ইউরোর গ্রুপ পর্ব পেরিয়ে নকআউটে জায়গা করে নেয় জার্মানি। অবশেষে কোয়ার্টার ফাইনালে হার দিয়েই নিজের ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচটা খেলে ফেললেন টনি ক্রুস। ক্রুসের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় অর্জন বলতে জার্মানির হয়ে ২০১৪ সালে বিশ্বকাপ জয়।

ক্লাব ক্যারিয়ারের শেষটা স্বপ্নের মতো হয়েছিল টনি ক্রুসের । চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা জিতেই রিয়াল মাদ্রিদকে বিদায় বলেছিলেন জার্মান তারকা। তবে জাতীয় দলের জার্সিতে শেষটা বর্ণিল হয়নি। অবসর ভেঙে জাতীয় দলে ফেরা মিডফিল্ডারের ক্যারিয়ার শেষ হয়েছে ইউরোর কোয়ার্টারে। ২০১০ সালের মার্চে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ১-০ গোলে পরাজয় দিয়ে শুরু হয়েছিল ক্রুসের আন্তর্জাতিক যাত্রা। ২০ বছরের ক্যারিয়ারে ইতি টানলেন স্পেনের কাছে ২-১ গোলের পরাজয় হজম করে।

দেশের জার্সিতে ১১৪ ম্যাচে ১৭টি গোল ও ২১টি অ্যাসিস্ট করেছেন ক্রুস। ছয়টি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, ছয়টি ক্লাব বিশ্বকাপ, পাঁচটি উয়েফা সুপার কাপ এবং বর্ষসেরা খেলোয়াড় ও গোলদাতার পুরস্কার জিতেছেন এই খেলোয়াড়। বায়ার্নের হয়ে ২০৫ ম্যাচে ২৪টি গোল করেন ক্রুস। অ্যাসিস্ট করেছেন ৪৯টি। জার্মান ক্লাবটির হয়ে ১০টি শিরোপা স্পর্শ করেছেন তিনি। ছিল একটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, একটি ক্লাব বিশ্বকাপ, তিনটি বুন্দেস লিগা , তিনটি জার্মান কাপ, একটি জার্মান সুপার কাপ এবং একটি উয়েফা সুপার কাপ শিরোপা।

২০১৪ সালে রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দিয়ে ৪৬৫ ম্যাচ খেলে করেছেন ২৮টি গোল। অ্যাস্টিট করেছেন ৯৯টি। লা লিগা জায়ান্টদের হয়ে ২৩টি শিরোপা জিতেছেন। রিয়ালের হয়ে পাঁচটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, পাঁচটি ক্লাব বিশ্বকাপ, চারটি লিগ শিরোপা, চারটি স্প্যানিশ সুপার কাপ, চারটি উয়েফা সুপার কাপ এবং একটি স্প্যানিশ কাপ আছে তার ঝুলিতে।

Google search engine