Google search engine

গ্লোবাল সুপার লীগে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচেও হারল রংপুর রাইডার্স। ভিক্টোরিয়ার বিপক্ষে সৌম্য সরকার- স্টিভেন টেইলরের উড়ন্ত সূচনার পরও নুরুল হাসান সোহান-আফিফ হোসেনদের বাজে ফিনিশিংয়ের কারণে ১০ রানে হারে দলটি। টানা দুই হারে পয়েন্ট টেবিলের তলানিতে আছে দলটি।

১৫২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে উড়ন্ত সূচনা পায় রংপুর। প্রথম ওভারেই দলটার বিদেশি ওপেনার টেইলরের ব্যাট থেকে আসে একটি ছক্কা এবং একটি চারের মার। ফলে সেই ওভারের আসে ১৪ রান। দ্বিতীয় ওভারের প্রথম বলেও বাউন্ডারি আদায় করে নেন টেইলর।

একপাশে তখনো নিরব আরেক ওপেনার সৌম্য সরকার। তবে বেশিক্ষণ সময় নেননি তিনি। নিজের খেলা তৃতীয় বলেই দৃষ্টিনন্দন চারের মার আসে সৌম্যর ব্যাট থেকেও। ২ ওভার শেষে রংপুরের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৬ রান।

৩ ওভারের শুরুতেই মারমুখী হন সৌম্য। প্রথম বলই সীমানা ছাড়া করেছেন তিনি, আদায় করে নিয়েছেন ছয় রান। ছন্দ খুজে পেয়ে একই ওভারের তৃতীয় বলেও চার মারেন সৌম্য। তৃতীয় ওভারের শেষ বলে টেইলর আরো একটি চার হাকালে রংপুরের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৪১ রান।

তবে চতুর্থ ওভার থেকে আসে মাত্র চার রান। পাঁচ ওভারের প্রথম বলেই আবারো টেইলর চার হাঁকান। তবে দুই বল পরই মিড উইকেটে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান তিনি। ফেরার আগে করেন ১৪ বলে ২৬ রান। দলীয় ৫১ প্রথম উইকেট হারায় রংপুর রাইডার্স। পাওয়ার প্লে’র শেষে রংপুরের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৬৩ রান।

জিততে হলে ৮৪ বলে তখনও রংপুরের দরকার ৮৯ রান। তবে পরের চার ওভারে ধীর হয়ে যায় রংপুরের রান তোলার গতি। ২৪ বল থেকে আসে মাত্র ২১ রান। দলটি হারায় হেডসেনের উইকেটও। তবে সৌম্য একপাশে দেখেশুনে খেলে যাচ্ছিলেন। একটি চার ও একটি ছক্কায় ১১তম ওভার থেকে আদায় করে নেন ১২ রান।

তবে ১৩ তম ওভারে হতাশ করে ফিরে যান আফিফ হোসেন। ১৫ বলে তিনি করেন মাত্র ১০ রান। অন্যদিকে একপাশ আগলে রেখে সৌম্য আদায় করে নেন ব্যাক্তিগত হাফ সেঞ্চুরি। হাফ সেঞ্চুরির পর ফিরে যান সৌম্য।

ক্যালাম স্টো’র বলে ক্যাচ তুলে দেন তিনি। ফেরার আগে করেন ৪২ বলে ৫১ রান। আফিফ ফেরার পর থেকেই অবশ্য ছন্নছাড়া ব্যাটিং করে দলটি। অধিনায়ক সোহান করেন ১০ বলে চার রান! সৌম্য আউট হওয়ার এক বল পর উইকেটরক্ষককে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান তিনি। এরপর আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি রংপুর। রিশাদ ১১ বলে ১১ রান করে কেবল পরাজয়ের ব্যবধান কমাতে পেরেছেন। সাত উইকেটে ১৪১ রানে থামে দলটি।

এর আগে ভিক্টোরিয়ার বিপক্ষে টস জিতে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন রাইডার্স অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহান। তবে সোহানের সিদ্ধান্তকে ঠিক প্রমাণ করতে ব্যর্থ হন রংপুরের বোলাররা। পাওয়ার প্লে’র ৬ ওভারে একটাও উইকেট তুলতে পারেনি দলটা।

ভিক্টোরিয়ার দুই ওপেনার জো ক্লার্ক এবং ব্লেইক ম্যাকডোনাল্ড মিলে ৬ ওভারে দলের নামের পাশে যোগ করে ফেলেন ৫০ রান। তখনই বার্তা দেন বড় সংগ্রহের পথে এগিয়ে যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়ান দলটা। প্রথম উইকেট পেতে রংপুর কে অপেক্ষা করতে হয়েছে ৯ম ওভারের শেষ বল পর্যন্ত।

রিশাদের বলে উড়িয়ে মারতে গিয়ে আফিফের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান ম্যাকডোনাল্ড।
ভিক্টোরিয়ার রান তখন ৯ ওভার শেষে ৭০। রিশাদের এনে দেয়া ব্রেক থ্রু’র পর মোমেন্টাম পায় রংপুর। পরের চার ওভারে ভিক্টোরিয়া তোলে মাত্র ১৭ রান, এর মধ্যে কামরুল ইসলাম রাব্বির শিকার হয়ে ফিরে যান আরেক ওপেনার ক্লার্কও।

শুরুর দিকে রানের চাকা সচল থাকলেও মাঝপথে এসে সেটা কিছুটা হলেও আটকে দিতে পেরেছেন রংপুরের বোলাররা। তবে শেষ দিকে আবার স্কট এডওয়ার্ডের ১৭ বলে খেলা ৩০ রানের ক্যামিও ইনিংসে ভর করে ১৫১ রানের সংগ্রহ পায় ভিক্টোরিয়া।

Google search engine