
পরিসংখ্যানের সঙ্গে সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স সব কিছু মোহামেডানের পক্ষেই ছিল। তবে গোলবলের খেলায় প্রতিটা ম্যাচই নতুন। ম্যাচ দিন যে দল ভালো খেলবে সেই দল জয়ী হবে। তাই পরিসংখ্যান সব সময়ই এগিয়ে থাকা দলের পক্ষে থাকে না।
আজ যেমন ফেডারেশন কাপের ম্যাচে মোহামেডানের পক্ষে ছিল না। সর্বশেষ ২০২৩ সাল থেকেই ঢাকা আবাহনীর ‘যম’ ছিল মোহামেডান। সব মিলিয়ে সর্বশেষ ৬ ম্যাচ খেলে প্রতিপক্ষের বিপক্ষে কোনো জয় পায়নি আবাহনী। সাফল্য বলতে ছিল ৩ হারের বিপরীতে ৩ ড্র।
সেই যমের হাত থেকে আজ মুক্তি পেয়েছে আবাহনী। ফেডারেশন কাপের ম্যাচে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহামেডানকে ১-০ গোলে হারিয়েছে তারা। দলের হয়ে জয়সূচক গোলটি করেছেন মোহাম্মদ ইব্রাহিম। ৭৪ মিনিটে দলকে জয়সূচক গোল এনে দিয়ে উদযাপনটাও করলেন দেখার মতো।
বল জালে জড়ানোর সঙ্গে সঙ্গেই নিজের জার্সি খুলে বুনো উল্লাসে মাতেন ইব্রাহিম। এর জন্য অবশ্য শাস্তি পেয়েছেন তিনি। ফুটবলের নিয়মানুযায়ী, গোল করার পর তো অবশ্যই ম্যাচ চলাকালীন সময় কোনো খেলোয়াড় নিজের জার্সি খুলতে পারবেন না। তার গোলে টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে যাওয়ার পথটা মসৃণ করেছে এ মৌসুমে বিদেশি ছাড়া স্কোয়াড সাজানো আবাহনী।
কুমিল্লার শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে অবশ্য দুই দলের ঐতিহ্যবাহী লড়াইটি তেমন রোমাঞ্চ ছড়াতে পারেনি। প্রথমার্ধটা তো একদম ম্যাড়ম্যাড়ে ছিল। দুই দলই কিছু আক্রমণ করলেও সে সব গোল পাওয়ার মতো ছিল না। তবে দ্বিতীয়ার্ধে গোলের খোঁজে আবাহনী-মোহামেডান খেলার গতি বাড়িয়ে দেয়।
সেই ধারাবাহিকতায় বরিতির পর পরেই এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল মোহামেডান। তবে মুজাফফরভের নেওয়া কর্নার কিক থেকে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাওয়া মোহামেডানের আশা ভঙ্গ করে দেন আবাহনীর গোলরক্ষক মিতুল মারমা। মিতুলে ফ্লিকের কাছে সাদা-কালোরা গোল বঞ্চিত হলেও ৭৪ মিনিটে ঠিকই হেসেছে আবাহনী। আকাশি-নীলদের মুখে হাসি এনে দেন ইব্রাহিম। ডান প্রান্ত থেকে শাহরিয়ার ইমনের নিচু ক্রসে শুধু পা লাগিয়ে জালের পথ দেখি দেন ইব্রাহিম।




