
আবাহনী নিজেদের কাজ সেরে রেখেছিল—বিকেএসপিতে রূপগঞ্জ লিজেন্ডসকে ৭ উইকেটে হারিয়ে। শিরোপার অপেক্ষায় ছিল মোসাদ্দেক হোসেনের দল। তাদের চোখ ছিল মিরপুরে মোহামেডান-গাজী গ্রুপ ম্যাচের দিকে। গাজী গ্রুপের কাছে মোহামেডান হারলেই আজই শিরোপা নিশ্চিত হতো আবাহনীর।কিন্তু শেষ বলে মোহামেডানের নাটকীয় জয়ে এখন সুপার লিগের শেষ রাউন্ডে আবাহনী ও মোহামেডানের মুখোমুখি লড়াই রূপ নিয়েছে অঘোষিত ফাইনালে।
শিরোপা দৌড়ে টিকে থাকতে জয়ের বিকল্প ছিল না মোহামেডানের সামনে। গাজী গ্রুপের বিপক্ষে এমন এক ম্যাচে শেষ ওভারে তৈরি হয় নাটকীয়তা। জয়ের জন্য দরকার ছিল ১২ রান, বল হাতে পারভেজ ইমন।উইকেটে ছিলেন সাইফউদ্দিন ও নাসুম আহমেদ। প্রথম চার বল থেকে আসে মাত্র ৫ রান। তীব্র চাপের মুহূর্তে পঞ্চম বলে নাসুম হাঁকান বিশাল এক ছক্কা, ম্যাচ ঘুরে যায় মোহামেডানের পক্ষে। শেষ বলে প্রয়োজনীয় ১ রানও তুলে নেন তারা, নিশ্চিত হয় নাটকীয় জয়।
মিরপুরে মোহামেডানের সামনে লক্ষ্যটা ছিল মোটামুটি সহজ। টসে হেরে আগে ব্যাট করে গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স ৪৯.৪ ওভারে অলআউট হয়ে তোলে ২৩৬ রান। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৮০ রান আসে ওপেনার মুনিম শাহরিয়ারের ব্যাট থেকে। মোহামেডানের হয়ে সাইফউদ্দিন ও মোস্তাফিজুর রহমান নেন সর্বোচ্চ ৩টি করে উইকেট।
রান তাড়ায় শুরুটা ভালো হয়নি মোহামেডানের, দ্বিতীয় ওভারেই আউট হন ওপেনার আনিসুল ইসলাম।তবে রনি তালুকদার ও তাওহিদ হৃদয়ের ৭৫ রানের জুটিতে ঘুরে দাঁড়ায় দলটি। ১১৫ রানে তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে রনি আউট হওয়ার পর হৃদয় ও মাহমুদ উল্লাহ মিলে ইনিংস গড়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু হৃদয় (৩৭) ও মাহমুদ উল্লাহ (৪৯) ফিরে গেলে ম্যাচটি হয়ে পড়ে সমানে-সমান। সেখান থেকে শেষ পর্যন্ত দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন সাইফউদ্দিন (৩০*) ও নাসুম আহমেদ (২১*)।
এই জয়ের ফলে সুপার লিগের শেষ রাউন্ডে আবাহনী-মোহামেডান ম্যাচটা রূপ নিয়েছে অঘোষিত ফাইনালে। সেই ম্যাচে যে দল জিতবে, তাদের হাতেই উঠবে শিরোপা। সেই ম্যাচে মোহামেডান জিতলে দুই দলের পয়েন্ট সমান হবে। মুখোমুখি লড়াইয়ে এগিয়ে থাকায় মোহামেডানের হাতে উঠবে শিরোপা। আর ম্যাচ পরিত্যক্ত হলে চ্যাম্পিয়ন হবে আবাহনী।
