Google search engine

নতুন রূপে ফিরে আসতে চায় বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল)। টুর্নামেন্ট ঘিরে আগের যত বিতর্ক, প্রশ্নবিদ্ধ আয়োজন, খেলোয়াড়দের বকেয়া পারিশ্রমিক কিংবা স্বচ্ছতা নিয়ে যে দীর্ঘদিনের সমালোচনা, সবকিছু থেকে বেরিয়ে একটি ‘ফুল প্রুফ’ বিপিএলের স্বপ্ন দেখাচ্ছেন নতুন গভর্নিং কাউন্সিল। আর সেই প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল ও বিপিএল চেয়ারম্যান মাহবুব আনামের নেতৃত্বে আয়োজিত হলো এক ব্যতিক্রমী সভা।

মিরপুরে আয়োজিত এই সভায় আমন্ত্রিত ছিলেন তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিম, এনামুল হক বিজয়সহ বেশ কয়েকজন জাতীয় দলের অভিজ্ঞ ক্রিকেটার। ভিডিও কলে যুক্ত হয়েছিলেন অনেকে। বিসিবি চাইছে খেলোয়াড়দের অভিজ্ঞতা থেকে শেখার, তাদের মতামত থেকে গড়ে তোলার এক নতুন বিপিএল। এরপর সাংবাদিকদের সঙ্গেও আলোচনায় বসে গভর্নিং কাউন্সিল, যাতে গণমাধ্যমের পর্যবেক্ষণ ও পরামর্শও পাওয়া যায়।

মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনে বিপিএল চেয়ারম্যান মাহবুব আনাম জানালেন তাদের লক্ষ্য একটাই, বিতর্কমুক্ত, দায়বদ্ধতা-ভিত্তিক ও আন্তর্জাতিকমানের একটি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ গড়ে তোলা। তিনি বলেন “আমরা কন্ট্রোভার্সি থেকে বেরিয়ে আসতে চাই। এবার প্লেয়ার, স্পন্সর, মিডিয়া, সব স্টেকহোল্ডারদের সাথেই আলোচনা হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “প্লেয়ার ও সাংবাদিকদের সঙ্গে যে আলোচনা হয়েছে, তা প্রাণবন্ত ও খোলামেলা ছিল। সবাই বেশ কিছু ভালো ও গ্রহণযোগ্য পরামর্শ দিয়েছেন। প্লেয়াররাও স্বীকার করেছেন যে, শুধু বোর্ড নয়, তাদেরও কিছু দায়িত্ব ছিল যা তারা পালন করেননি। এভাবে একসাথে কাজ করলেই বিপিএল এগোতে পারবে।”

সভায় অতীত বিতর্ক নিয়ে প্রশ্ন উঠলে মাহবুব আনাম স্পষ্ট করেন, এবার অতীত নিয়ে অভিযোগের পেছনে না ছুটে ভবিষ্যতের রোডম্যাপ তৈরিতে মনোযোগ দিচ্ছে বোর্ড। “আমরা সব নোট নিচ্ছি। ভবিষ্যতের জন্য একটা লিখিত পেপার প্রস্তুত করব। সেইসাথে একটি স্পোর্টস ম্যানেজমেন্ট ফার্মের সাহায্যও নেওয়ার চেষ্টা করছি।”

এছাড়া টুর্নামেন্টের সময়সীমা নিয়ে তিনি বলেন, “ডিসেম্বর-জানুয়ারির মধ্যে বিপিএল আয়োজন করার ইচ্ছা আছে। তবে এবার আমরা চাই একটা পূর্ণাঙ্গ ফাইনান্সিয়াল মডেল তৈরি করতে, যাতে পেমেন্ট, কোড অব কন্ডাক্ট, অ্যান্টি করাপশন, সব কিছুই অন্তর্ভুক্ত থাকে। বিপিএল বাঁচিয়ে রাখতে হলে এই মডেল জরুরি।”

চিরাচরিত পারিশ্রমিক বিতর্ক নিয়েও এবার ভাবছে গভর্নিং কাউন্সিল। মাহবুব আনাম জানান, খেলোয়াড়দের প্রস্তাব এসেছে পারিশ্রমিক কাঠামো উন্নয়নের, বিশেষ করে ড্রাফটে ঘোষিত পারিশ্রমিক যেন বাস্তবায়ন হয়। এ ছাড়া সাংবাদিকদের প্রশ্নে উঠে আসে নিলামের প্রস্তাবও। তবে তিনি বলেন, “আইপিএল ছাড়া বিশ্বে বড় লিগগুলোতেও ড্রাফটেই প্লেয়ার তোলা হয়। যদিও আমরা প্লেয়ারদের কাছ থেকে সাজেশন নিয়েছি, বিষয়টি খতিয়ে দেখব।”

এছাড়া রিটেইন ব্যবস্থা আসবে কিনা, সেটিও নির্ভর করছে নতুন ফাইনান্সিয়াল মডেলের উপর। তবে মাহবুব আনাম আশ্বস্ত করেন, এবারের বিপিএলের পর সবকিছুর একটি পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনা হবে এবং নিয়মিত জবাবদিহিতার ব্যবস্থা থাকবে।

সবমিলিয়ে, বারবার সমালোচিত বিপিএলকে বাঁচাতে বিসিবি এবার সত্যিই যেন পরিবর্তনের পথে হাঁটতে চায়। বিতর্ক সরিয়ে উন্নয়ন, স্বচ্ছতা ও পেশাদার ব্যবস্থাপনার প্রতিশ্রুতি নিয়ে শুরু হচ্ছে বিপিএলের নতুন অধ্যায়, সময়ই বলবে, এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবের মাঠে কতটা সফল হয়।

Google search engine