Google search engine

একই দাড়িপাল্লায় মাপা হচ্ছে তানজিম হাসান সাকিব ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনকে। দুইজনকেই ভাবা হচ্ছে পেস বোলিং অলরাউন্ডার। কিন্তু তাদের বৈশিষ্ট্যের রয়েছে ফারাক। তাই বাংলাদেশ দলের টিম ম্যানেজমেন্টকে বিবেচনায় নিতে হবে তা। সে অনুযায়ী প্রাধান্য ঠিক করতে হবে এশিয়া কাপের একাদশে।

প্রথমত মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন বোলিং অলরাউন্ডার নন। তাকে বরং অলরাউন্ডার হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। যিনি ব্যাটিংটা ভাল পারেন। মিডিয়াম পেস বোলিংটা করতে জানেন। অন্যদিকে তানজিম হাসান সাকিব মূলত বোলার। যিনি আসলে টুকটাক ব্যাটিং করতে জানেন। সবার যেদিন ব্যাটিং ব্যর্থ হলে কিছু রান যুক্ত করে দিতে পারেন তিনি।

সাইফউদ্দিনের উপর পূর্ণ চার ওভারের ভার চাপিয়ে দেওয়া উচিত হবে না। চলতি বছরে অবশ্য তার বোলিং পরিসংখ্যান দিতে পারে ভিন্ন ভাবনার জায়গা। ৭.১০ ইকোনমিতে তিনি চার উইকেট বাগিয়েছেন তিন ইনিংসে বোলিং করে। তবুও তাকে দিয়ে চার ওভারের কোটা পূরণ করা যাবে না। কেননা তিনি খেই হারিয়েছেন প্রতিটা ম্যাচেই।

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দীর্ঘ বিরতি কাটিয়ে সাইফউদ্দিনের প্রত্যাবর্তন ঘটেছিল আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে। শুরুতেই তাকে সহ্য করতে হয়েছে বেধম প্রহার। একই ঘটনা ঘটেছে বাকি দুই ম্যাচেও। অতএব তাকে ব্যবহার করতে হলে একাদশে আরও একজন অলরাউন্ডারের প্রয়োজন হবে। যিনি কি-না সাইফউদ্দিনের সাথে জুটি বেঁধে চার ওভার কোটা পূরণ করবেন। এক্ষেত্রে মোহাম্মদ সাইফ ও শামীম পাটোয়ারি হতে পারে বিকল্প।

প্রশ্ন হতে পারে, তাহলে সাইফউদ্দিনকে কেন একাদশে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে? উত্তর হচ্ছে- তার ব্যাটিংয়ের জন্যে। তিনি সাত নম্বর ব্যাটার হিসেবে ইনিংসের ফিনিশিং টাচটা দিতে পারবেন বেশ ভালভাবেই। বিপর্যয়ের দিনে হাল ধরার ক্ষমতাও ধারণ করেন তিনি। অতএব তার বৈশিষ্ট্য মাথায় রেখে একাদশে তাকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

অন্যদিকে তানজিম হাসান সাকিব পেস ইউনিটের অন্যতম সদস্য। তিনি ম্যাচের মোমেন্টাম দলের পক্ষে নিয়ে আসার সক্ষমতা রাখেন, তবে অবশ্যই তা বল হাতে। যদিও চলতি বছরে ভীষণ রান খরুচে ছিলেন তানজিম হাসান সাকিব। তিনি মূলত উইকেট শিকারের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামেন। সে কারণেই ব্যাটারদের প্রলোভন দেখাতে গিয়ে খরচা রানের ট্যালি বেড়ে যায়। কিন্তু যেদিন তার পরিকল্পনা ঠিকঠাক বাস্তবায়িত হয়, সেদিন তিনি মোমেন্টাম ঘুরিয়ে দিতে পারেন অনায়াসে।

ঘরের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে দুই ম্যাচে ৫.৪ ইকোনমিতে রান দিয়ে তিন উইকেট তুলে নিয়েছিলেন। সেই দু’টো ম্যাচের প্রেক্ষাপটে দারুণ বোলিং তো বটেই। তাছাড়া টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের যেকোন পরিস্থিতি বিবেচনায় দারুণ প্রশংসনীয় বোলিং পরিসংখ্যানও বটে।তাছাড়া আধুনিক টি-টোয়েন্টিতে ধারাবাহিকতার চাইতেও, ম্যাচ উইনার প্রয়োজন। সাকিব বল হাতে দলের সেই গেম চেঞ্জার। সাকিবের বোলিংকে যতটা ভরসা করা যাবে, তার ব্যাটিংকে ততটাও ভরসা করার সুযোগ কম।

Google search engine