
চার বছর পর জাতীয় দলে ফিরেই আলোচনায় সাইফ হাসান। নেদারল্যান্ডস সিরিজে তাওহিদ হৃদয়ের জায়গায় সুযোগ পেয়ে ১৯ বলে অপরাজিত ৩৬ রান করেছিলেন তিনি। এরপর এশিয়া কাপে ডাক পেলেও প্রথম দুই ম্যাচে একাদশে জায়গা পাননি। তবে আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাঁচা-মরার ম্যাচে ৩০ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলে দলের ভরসা জুগিয়েছিলেন।
কিন্তু আসল চমকটা এল সুপার ফোরের প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। দুবাইয়ে ১৬৯ রানের লক্ষ্য তাড়ায় নেমে ৪৫ বলে ৬১ রানের দারুণ ইনিংস খেলেন এই ওপেনার। আন্তর্জাতিক টি–টোয়েন্টিতে এটি তার দ্বিতীয় ফিফটি, ৩৬ বলেই পৌঁছে যান অর্ধশতকে। তার ব্যাটিংয়ে ভর করেই জয়ের ভিত গড়ে বাংলাদেশ। যা শেষ পর্যন্ত নিশ্চিত করেন তাওহিদ হৃদয়ের ৫৮ রানের ইনিংস।
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এমন পারফরম্যান্সে প্রথমবারের মতো ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতেন সাইফ। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে ফাইনালের স্বপ্নের কথা লুকাননি সাইফ, ‘ফাইনাল খেলার স্বপ্ন অবশ্যই আমাদের সবার আছে। বড় স্বপ্ন দেখা উচিত। তবে আমরা ধাপে ধাপে এগোতে চাই। আপাতত ফোকাস ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে।’
টুর্নামেন্টে আসার আগেই ফাইনালের স্বপ্ন লালন করছিলেন তারা। সাইফ জানালেন, ‘অবশ্যই এখানে আসার আগে আমাদের বিশ্বাস ছিল আমরা ফাইনাল খেলব। এই জয়ে আমরা এক ধাপ এগোলাম। এখনো দুটি ম্যাচ বাকি, আপাতত সেই ম্যাচগুলোকেই গুরুত্ব দিচ্ছি।’
সাইফ মনে করেন, গ্রুপ পর্বের ভুল শুধরে নেওয়ার কারণেই সুপার ফোরে এমন জয়। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, একজন ব্যাটারের পাশাপাশি পাঁচজন বোলার থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ব্যাটিংয়েও গভীরতা দরকার ছিল। আজকের ম্যাচে আমাদের কম্বিনেশন একেবারেই সঠিক ছিল।’
সংবাদ সম্মেলনে এসে সাইফকে মুখোমুখি হতে হয় মজার এক প্রশ্নের। তার নানাবাড়ি শ্রীলঙ্কায়। তাদের হারিয়ে দেওয়ার অনুভূতি কি একটু আলাদা? সাইফের উত্তর, ‘ও রকম কিছু না। শ্রীলঙ্কায় আমি ওখানে যাই–ই নাই। তাই আমি জানি না।’
তবে ইনিংসটা যে তার কাছে বিশেষ তা জানিয়েছেন সাইফ, ‘আজকের ইনিংসটা স্পেশাল ছিল, দলের জন্য অবদান রাখতে পেরেছি। আশা করি আরও ভালো কিছু হবে।’




