
মোঃ আকাশ খান:
বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের নেতৃত্ব নিয়ে নতুন আগ্রহ এবং জল্পনা এখন তুঙ্গে। নাজমুল হোসেন শান্তের নেতৃত্ব থেকে সরে আসার পর থেকে সাদা পোশাকের দলে অধিনায়ক নির্বাচন নিয়ে বিসিবির সামনে চাপ বেড়েছে। ঘরের মাঠে আগামি মাসের শুরুতে আয়োজিত হতে যাওয়া আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের প্রস্তুতির জন্য সময় যেন খুবই সীমিত। এই অবস্থায় বিসিবি অভিজ্ঞ ক্রিকেটার লিটন দাসকে টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে নিয়ে ভাবনা-চিন্তা করছে।
গত জুন মাসে টেস্ট অধিনায়কত্ব থেকে সরে আসেন নাজমুল হোসেন শান্ত। তার পর থেকে নতুন অধিনায়কের খোঁজ চলছে। বিসিবি নাজমুলের সঙ্গে যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন, তবে শান্ত যদি টেস্ট নেতৃত্ব গ্রহণে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন, তাহলে বিকল্প হিসেবে দু’জন ক্রিকেটারকে বিবেচনায় রাখা হয়েছে। একজন হচ্ছেন ওয়ানডে দলের অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ এবং অন্যজন টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক লিটন দাস। যদিও এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
লিটন দাস নিজেও বিষয়টি নিয়ে স্পষ্ট নয়। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে চলমান তিন ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচের আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে লিটন জানান, “এখন পর্যন্ত আমার কাছে কোনো প্রস্তাব আসেনি। যদি বিসিবি আমাকে উপযুক্ত মনে করে, তারা আমার সঙ্গে কথা বলবে। তারপর দেখা যাবে কী সিদ্ধান্ত হয়।” লিটন আরও বলেন, “টেস্ট ক্রিকেটে অধিনায়কত্ব পাওয়া একজন খেলোয়াড়ের জন্য অনেক বড় সম্মান। যদি সুযোগ পাই, আমি অবশ্যই দায়িত্ব নিতে আগ্রহী।”
২০২৩ সালের মিরপুরে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে রেকর্ড ৫৪৬ রানের বড় জয়ে লিটন ভারপ্রাপ্ত অধিনায়কের ভূমিকায় ছিলেন। সেই সময় থেকে তার নেতৃত্বে দলে নতুন প্রাণ সঞ্চারিত হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা ছিল। তবে নাজমুলের অনাগ্রহের কারণে এখন এই সিদ্ধান্ত নিয়ে বিসিবির ভাবনা আরও জোরদার হয়েছে।
বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য টেস্ট অধিনায়কের নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। কারণ টেস্ট ক্রিকেট দেশের ক্রিকেটের মেরুদণ্ড, যেখানে সুদৃঢ় নেতৃত্বে দল গঠন এবং ধারাবাহিকতা বজায় রাখা অতীব জরুরি। লিটন যদি নেতৃত্ব পান, তাহলে তার অভিজ্ঞতা এবং তরুণদের সঙ্গে সেতুবন্ধন গড়ে বাংলাদেশ টেস্ট দলের পারফরম্যান্সে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে। অন্যদিকে, মেহেদী হাসান মিরাজের নামও আলোচনায় থাকায় শেষ পর্যন্ত বিসিবির সিদ্ধান্ত কী হবে, তা ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য অপেক্ষার বিষয়।
বিসিবির কাছে সময় কম, তাই টেস্ট অধিনায়ক নিয়ে সিদ্ধান্ত দ্রুত নেওয়া প্রয়োজন। এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ টেস্ট ক্রিকেটের জন্য দিকনির্দেশক হিসেবে কাজ করবে। ক্রিকেটপ্রেমীদের দৃষ্টি এখন বিসিবির দিকে, যারা শিগগিরই এই গুরুত্বপূর্ণ পদে নতুন নেতৃত্বের ঘোষণা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।




