
মোঃ লিমন শাহরিয়ার:
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ভারতের প্রভাব নিয়ে বিতর্ক বহুদিনের। কেউ বলেন ‘ক্রিকেট মানেই এখন ভারত, কেউ আবার মনে করেন, আইসিসি নয়, আসল নিয়ন্ত্রণ বোর্ড হলো বিসিসিআই।” বিশ্লেষক, সাংবাদিক এমনকি অনেক সাবেক ক্রিকেটারও বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন বিভিন্ন সময়ে। এবার সেই তালিকায় যোগ হলেন এক সময়ের অভিজ্ঞ ক্রিকেটার ও আইসিসির সাবেক ম্যাচ রেফারি ক্রিস ব্রড।
দ্য টেলিগ্রাফকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ব্রড এমন এক অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন, যা ক্রিকেট বিশ্বে নতুন করে আলোচনার ঝড় তুলেছে। তাঁর দাবি, এক সময় তাঁকে সরাসরি ভারতের পক্ষে সিদ্ধান্ত দিতে বাধ্য করা হয়েছিল এমনকি নিয়ম ভেঙে হিসাব বদলাতে হয়েছিল শুধু ভারতের স্বার্থে!
ক্রিস ব্রড বলেন,
এক আন্তর্জাতিক ম্যাচে ভারতীয় দল ওভার রেটে চার ওভার পিছিয়ে পড়ে। নিয়ম অনুযায়ী এতে অধিনায়ক ও দলকে আর্থিক জরিমানা করা উচিত ছিল। কিন্তু তখন আইসিসি সদর দপ্তর থেকে আমার কাছে ফোন আসে। ফোনে বলা হয় ‘এটা ভারত, একটু নমনীয় হোন। কিছু সময় খুঁজে বের করুন যেন জরিমানার প্রয়োজন না পড়ে।’ আমি বাধ্য হয়ে হিসাব বদলাই, সময় বাড়িয়ে দেখাই, যাতে সব ঠিকঠাক মনে হয়।”
এই ঘটনার পরও ব্রড চুপ থাকেননি। কিন্তু আরও অবাক হয়ে যান পরের ম্যাচে।
তিনি বলেন,
পরের ম্যাচেও একই পরিস্থিতি তৈরি হয়। তখন ভারতের অধিনায়ক ছিলেন সৌরভ গাঙ্গুলী। তিনি কোনোভাবেই তাড়াহুড়ো করছিলেন না। ম্যাচ শেষে আবার যোগাযোগ করি আইসিসির সঙ্গে, জানতে চাই এবার কী করা হবে। তখন বলা হলো, ‘এইবার করো জরিমানা।’ অর্থাৎ একবার ছাড়, একবার শাস্তি নিয়ম নয়, রাজনীতি চলছিল পেছনে।
ব্রডের মতে, ক্রিকেটে এখন আর সমান বিচার নেই।
আমি তখনই বুঝেছিলাম, সিদ্ধান্তগুলো মাঠের পারফরম্যান্সের ওপর নয়, ক্ষমতার ওপর নির্ভর করছে। যাদের অর্থ ও প্রভাব বেশি, তারা সহজেই সিদ্ধান্ত বদলাতে পারে। এটা ক্রিকেটের জন্য খুবই দুঃখজনক।
তাঁর এই মন্তব্যে আবারও প্রশ্ন উঠেছে —
আইসিসি কি আসলেই স্বাধীন সংস্থা?
ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রণ কি এখন পুরোপুরি ভারতের হাতে?
বড় দলগুলোর জন্য কি নিয়ম আলাদা?
ক্রিস ব্রডের এই বক্তব্য প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা। কেউ বলছেন, “সবাই জানত, এখন প্রমাণ মিললো”, আবার কেউ মনে করছেন, এটা পুরোনো ঘটনা, এখন পরিস্থিতি বদলেছে।
তবে যেভাবেই দেখা হোক, তাঁর এই স্বীকারোক্তি ক্রিকেটের ‘গ্লোবাল ন্যায্যতা’ নিয়ে বড় প্রশ্ন তোলে।




