
মোঃ লিমন শাহরিয়ার:
এ বছর টি–টোয়েন্টিতে দারুণ সময় কাটাচ্ছে বাংলাদেশ। এক ক্যালেন্ডার বছরে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ জয়ের রেকর্ড এখন টাইগারদের দখলে! টানা চারটি সিরিজ জয়! সব মিলিয়ে আত্মবিশ্বাসে ভরপুর দল।
কিন্তু সব ভালো জিনিসের মাঝেও এক জায়গায় রয়ে গেছে বড় প্রশ্নচিহ্ন বাংলাদেশের মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানরা গেল কোথায়?
এই বছর খেলা ২৫ টি–টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানদের স্ট্রাইক রেট মাত্র ১১৯.৮৩ টেস্ট খেলুড়ে সব দেশের মধ্যে সবচেয়ে নিচে!
আর এখানেই ধরা পড়ে মূল ব্যর্থতার গল্প।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম টি–টোয়েন্টিতে ব্যর্থতার গল্পটা আবারও ঘুরেফিরে মিডল অর্ডারেই এসে থেমেছে।
ম্যাচ শেষে যখন সাংবাদিকরা প্রশ্ন তুললেন, ‘বাংলাদেশের মিডল অর্ডারকে কী হয়েছে? তখন পেসার তানজিম হাসান সাকিবের সোজা উত্তর,
উত্তরটা আমার কাছে নেই।
হাসি দিয়ে বলা সেই কথার পেছনে লুকিয়ে ছিল এক কঠিন বাস্তবতা।
কারণ, ব্যাট হাতে তিনিই করেছিলেন দলের সর্বোচ্চ ৩৩ রান, অথচ তিনি তো মূলত একজন বোলার!
এ বছর মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানদের কাছ থেকে এসেছে মাত্র দুটি ফিফটি
একটি জাকের আলীর, আরেকটি তাওহিদ হৃদয়ের।
এই পারফরম্যান্সে বাংলাদেশ পড়ে আছে তালিকার একদম নিচে, কেবল শ্রীলঙ্কার ওপরে, যারা খেলেছে বাংলাদেশের অর্ধেকেরও কম ম্যাচ।
পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে দাঁড়িয়ে অধিনায়ক লিটন দাসও লুকাতে পারেননি ক্ষোভ।
তিনি সরাসরি শামীম হোসেনের নাম নিয়ে বলেন,
দলকে কঠিন সময়ে টানার দায়িত্ব নিতে হবে।
শেষ ১৩ ম্যাচে ৬ বার দুই অঙ্কের ঘরেও যেতে পারেননি শামীম।
তিনবার শূন্য, দুবার আউট ১ রানে!
শেষ ম্যাচেও জেসন হোল্ডারের বলে ৪ বলে ১ রান করে বোল্ড হয়ে ফিরেছেন।
সামনে কি বদল আসবে?
উত্তরে তানজিম বলেন,
ফিল্ডার ছড়িয়ে পড়ার পর এক–দুই রান করে খেলাটাকে গভীরে নেওয়ার সুযোগ ছিল।
আরও দায়িত্ব নিতে হবে।
চট্টগ্রামে আগামীকাল সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ, আর ৩১ অক্টোবর শেষ টি–টোয়েন্টি।
তাওহিদ হৃদয়, শামীম হোসেনরা কি এবার ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন?
নাকি আবারও ‘মিডল অর্ডারের ধাঁধা’ থেকে যাবে অমীমাংসিতই?




