
পাঁচ নম্বরে একটা শঙ্কা আগে থেকেই ছিল। সেটা এখনও আছে। তবে, শুধু পাঁচ নম্বর নয়, সংকট আছে চার নম্বর বা ছয় নম্বরে। কার্যত বাংলাদেশের গোটা মিডল অর্ডার জুড়েই নানা রকম বিপদ দানা বাঁধছে। সর্বাঙ্গে ব্যথা, ওষুধ দেবো কোথা? এই প্রশ্নটা চাইলে টিম ম্যানেজমেন্ট করতেই পারে।
১৫০ রান তাড়া করতে হবে, চট্টগ্রামের স্পোর্টিং উইকেটে এটা কোনো বড় লক্ষ্য ছিল না। সেখানে চার, পাঁচ ও ছয় নম্বর ব্যাটারের কাছ থেকে বাংলাদেশ রান পেল মাত্র ৩০ রান। বল খেলেছেন ৩৪ টি। ম্যাচটা কার্যত সেখানেই শেষ। এর এখানেই মোমেন্টাম চলে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাথে।
দিন শেষে বাংলাদেশ মাত্র ১৪ রানে হারে, যে সামান্য ক’টা রান এই ব্যাটারদের বের করা উচিৎ ছিল। তাওহীদ হৃদয় ক’দিন ধরে এভাবেই খেলছেন। ভিষণ মন্থর অ্যাপ্রোচ, টি-টোয়েন্টির সাথে যেটা যায় না একদমই। ১৪ বল খেলে ১২ রান করেছেন, সেখান থেকেই বাংলাদেশ রান তাড়ার লড়াইয়ে পিছিয়ে পড়তে শুরু করে।
জাকের আলী অনিক একেবারেই টাচে ছিলেন না। ব্যাট হাতে যেন নিজেকে টেনে নিয়ে গেলেন। মনে হচ্ছিল খেলাটার মধ্যেও তাঁর একদম মন নেই। পা চলছে, বলের লাইনে পৌঁছাতে পারছেন না। তিনি মানসিক ভাবেই এই মুহূর্তে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের জন্য প্রস্তুত নন। ১৮ বলে ১৭ রান করে আউট হয়ে দলের বিপদ দ্বিগুন করেন।
আর জয়ের যা একটু সম্ভাবনা ছিল সেটা শেষ করে দেন শামিম হোসেন পাটোয়ারি। দুই বল খেলে এক রান করে বোল্ড হয়ে যান। দলের অধিনায়ককে ইন্সটাগ্রামে আনফলো করে দেওয়ার মধ্যে কোনো বীরত্ব নেই। বীরত্ব দেখাতে হয় মাঠে। পাঁচ নম্বরের জন্য তিনি মানানসই নন। কিন্তু, ফিনিশার হিসেবে তো তাঁর খ্যাতি আছে। এবার ফিনিশ করার সুযোগ পেয়েও ব্যর্থ, বরং বাংলাদেশের জয়কে এক নিমিষেই ফিনিশ করে দিয়েচেন শামিম।
এই অবস্থায় বিকল্পই খুঁজতে হবে বাংলাদেশকে। না হলে ক’দিন আগেই যারা নেপালের বিপক্ষে সিরিজ হেরেছে, তাঁদের কাছে এভাবেই অসহায় আত্মসমর্পন করতে হবে বারবার।




