
মোঃ লিমন শাহরিয়ার:
আগামী বছরের ১১ জুন শুরু হচ্ছে ফুটবলের ২৩তম বিশ্বকাপ, যা যৌথভাবে আয়োজিত হবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে। প্রতি বিশ্বকাপে যেমন খেলা দেখার জন্য লাখ লাখ সমর্থক মাঠে উপস্থিত হন, তেমন এবারও আশা করা হচ্ছে বিপুল উৎসাহ-উল্লাস। তবে ব্রাজিলীয় ফুটবলপ্রেমীদের জন্য সুখবর নেই। যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতি ও রাজনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে হতে পারে ব্রাজিলীয় সমর্থকদের জন্য গ্যালারিতে খেলা দেখা কঠিন।
সংবাদমাধ্যম দ্যা সান জানাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রাজিলের কূটনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েনের কারণে ভিসা জটিলতা তৈরি হতে পারে। এমনকি দেশের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্বকাপের সময়ও ব্রাজিলীয় নাগরিকদের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা চালিয়ে যেতে পারেন। ওয়াশিংটনে সফররত ব্রাজিলীয় সিনেটরদের সীমিত মেয়াদের ভিসা দেওয়ার ঘটনা এই গুজবকে আরও প্রকৃত মনে করাচ্ছে।
ফলস্বরূপ, ব্রাজিলীয় সমর্থকদের জন্য মাঠে উপস্থিত থাকা চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠতে পারে। সমর্থকরা হয়তো নেইমার, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও রদ্রিগোদের খেলা সরাসরি দেখতে না পেরে টিভি স্ক্রিনে চোখ আটকে রাখবেন। বিশ্বকাপের আনন্দময় উল্লাস ও সেলেসাওদের জন্য খেলা উৎসাহিত করার মুহূর্তগুলো অনেকেই মিস করতে পারেন।
ব্রাজিলের জন্য এটি শুধু সমর্থকের অভাব নয়! টিম সেলেসাওর খেলোয়াড়রা মাঠে উচ্ছ্বাসময় সমর্থক দেখে অনুপ্রাণিত হন। যদিও তারা ২০১৯ সালের কোপা আমেরিকায় ট্রফি জিতেছিল, তারপরে বড় কোনো জয় নেই। তাই আন্তর্জাতিক মঞ্চে সমর্থকদের উল্লাস না থাকাটা দল ও খেলোয়াড়দের জন্য হতাশার।
ফিফা এখনো এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি। তবে আন্তর্জাতিক ফুটবল কমিউনিটিতে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানীয় সমর্থকদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। যদিও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে যাওয়া খেলোয়াড় ও কোচদের ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই।
ফুটবলবিশ্বের দৃষ্টি এখন একটাই ভিসা নীতি এবং সমর্থকের মাঠে উপস্থিতি। ব্রাজিলীয় সমর্থকদের গ্যালারিতে উল্লাসময় উপস্থিতি না থাকলে বিশ্বকাপের উত্তেজনা কিছুটা কমে যেতে পারে, তবে তারা যেমন খেলোয়াড়দের সঙ্গে স্বপ্ন দেখতে চায়, তেমনই ভক্তদের উচ্ছ্বাসও খেলা দেখার আনন্দকে দ্বিগুণ করে তোলে।




