
মোঃ লিমন শাহরিয়ার:
বাংলাদেশ ক্রিকেটের সঙ্গে দীর্ঘ ১৪ বছরের সম্পর্কের ইতি টানতে যাচ্ছেন বিসিবির প্রধান কিউরেটর গামিনি ডি সিলভা।
২০১০ সালে বিসিবিতে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামের উইকেট ও আউটফিল্ড তৈরিতে ছিল তাঁর দায়িত্ব। কিন্তু এবার সেই সম্পর্ক শেষের পথে।
বিসিবির ভেতরের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, গামিনির সঙ্গে বোর্ডের চুক্তি থাকলেও তার আগেই দেশে ফিরছেন এই শ্রীলঙ্কান কিউরেটর। জুলাইয়ে নতুন করে এক বছরের চুক্তি হলেও ৯ মাস বাকি থাকতে তাঁকে বিদায় জানাচ্ছে বিসিবি। চুক্তি অনুযায়ী দুই মাসের বেতন পরিশোধ করে বোর্ড আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দিতে পারে শিগগিরই।
বিশ্বজুড়ে সাধারণত কিউরেটররা থাকেন নীরবে, কিন্তু গামিনি ছিলেন ব্যতিক্রম।
মিরপুরের উইকেট যখনই সমালোচনায় এসেছে, আলোচনায় থেকেছেন তিনিই।
তবে বাস্তবে উইকেটের ধরন অনেকাংশেই টিম ম্যানেজমেন্টের চাহিদা অনুযায়ী নির্ধারিত হয়! তবুও সমালোচনার তীর গেছে গামিনির দিকেই।
গত আগস্টে বিসিবি টার্ফ ম্যানেজমেন্ট উইংয়ের প্রধান হিসেবে টনি হেমিংকে নিয়োগ দেয়। এর পরপরই গামিনিকে মিরপুর থেকে সরিয়ে পাঠানো হয় রাজশাহী স্টেডিয়ামের দায়িত্বে। কিন্তু সেখানেও তাঁর কাজে সন্তুষ্ট ছিল না বোর্ড। বলা চলে, তখন থেকেই তাঁর বিদায়টা ছিল সময়ের অপেক্ষা মাত্র। বাংলাদেশ ক্রিকেটের উইকেট ও অবকাঠামো উন্নয়নে গামিনির অবদান অনস্বীকার্য। তাঁর হাত ধরেই দেশের বেশিরভাগ স্টেডিয়াম পেয়েছে আন্তর্জাতিক মানের রূপ। তবুও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিসিবি এখন চাইছে নতুন পরিকল্পনা, নতুন প্রযুক্তি আর সেই পরিবর্তনের জায়গায় জায়গা করে নিচ্ছেন টনি হেমিং।
গামিনির প্রস্থান মানে শুধু একজন কিউরেটরের বিদায় নয়, এটি এক যুগের অধ্যায়ের সমাপ্তি।
বাংলাদেশ ক্রিকেটের মাঠে নতুন যুগের সূচনা হচ্ছে, যেখানে গামিনির জায়গা নিচ্ছেন নতুন মুখ, নতুন ভাবনা, নতুন পরিকল্পনা।




