Google search engine

মোঃ লিমন শাহরিয়ার:

বাংলাদেশ ক্রিকেটে আবারও ব্যাটিং বিপর্যয়! চট্টগ্রামে ফরম্যাট বদলালেও বদলায়নি ফলাফল বরং আরও খারাপ। একের পর এক ব্যাটার যেন প্রতিযোগিতায় নেমেছেন, কে কার চেয়ে খারাপ খেলতে পারেন! শেষ পর্যন্ত পরিণতি ৩–০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ।

ওয়ানডে সিরিজে জয়ের পর টি-টোয়েন্টি মাঠে নামতেই যেন সব এলোমেলো। কারও মনে নেই পরিকল্পনা, কারও হাতে নেই স্থিরতা। সীমিত ওভারের ম্যাচে পাওয়ার প্লে কাজে লাগানো যেখানে সবচেয়ে জরুরি, সেখানে সৌম্য সরকার ও সাইফ হাসানই কেবল দেখালেন সাহসী ব্যাটিংয়ের উদাহরণ। তাদের দুর্দান্ত ১৭৬ রানের ওপেনিং জুটিই ছিল একমাত্র আলো—বাকি সবাই যেন ছায়া! হৃদয়, শান্ত, অঙ্কন, মিরাজ, রিশাদ বা নাসুম কারও ব্যাটে জ্বালোলো না আলো।

তবু সৌম্য-সাইফের ভরসায় ২৯৬ রান, আর বোলারদের নৈপুণ্যে ১৭৯ রানের জয়! এটাই ছিল একমাত্র স্বস্তির গল্প। হোয়াইটওয়াশের পর সংবাদ সম্মেলনে লিটন দাস মুখ খুললেন সোজাসাপ্টা।
খেলোয়াড়রা অনেক দিন ধরে টানা খেলছে। তারা ক্লান্ত, অবসাদগ্রস্ত। আমার মনে হয়, একটু বিরতি খুব দরকার। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে বিরতিই কি আসল সমাধান?
কারণ, বিরতির সুযোগই বা কোথায়!
ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ শেষ হতেই দরজায় কড়া নাড়ছে আয়ারল্যান্ড সিরিজ। ১১ নভেম্বর থেকেই শুরু দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ, তারপর আবার টি-টোয়েন্টি।

আইসিসির ভবিষ্যৎ ট্যুর পরিকল্পনা (এফটিপি) অনুযায়ী, সব পূর্ণ সদস্য দেশকেই নির্ধারিত সিরিজ ও টুর্নামেন্ট খেলতে হয়। এর সঙ্গে ঘরোয়া ক্রিকেটের ব্যস্ত সূচিও যোগ হয়েছে। ফলে ‘বিশ্রাম’ এখন প্রায় বিলাসিতা! বিশ্বের সব দলই টানা খেলছে তবু সাফল্যের রহস্য লুকিয়ে তাদের প্রস্তুতিতে, মানসিক শক্তিতে, এবং সঠিক ব্যবস্থাপনায়।

সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশার, আশরাফুল ও কোচিং পরামর্শক নাজমুল আবেদিন ফাহিমের এক কথা…
বাংলাদেশের ব্যাটাররা এক ফরম্যাট থেকে অন্য ফরম্যাটে গেলেই তালগোল পাকিয়ে ফেলে। মানিয়ে নিতে পারে না।

এই মানিয়ে না নেওয়াই এখন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা। ফরম্যাট বদলালেও মানসিকতা যেন বদলায় না। লিটন দাসের “বিরতি চাওয়া” নিঃসন্দেহে মানবিক, কিন্তু জাতীয় দলের বাস্তবতা বলছে… এখন সময় বিরতির নয়, আত্মসমালোচনার। কারণ, দেশের জার্সি গায়ে চাপিয়ে নামলে ক্লান্তি নয়, দায়িত্বই হতে হবে অগ্রাধিকার।

Google search engine