Google search engine

মোঃ লিমন শাহরিয়ার:

তুরস্কের ফুটবলে নেমে এসেছে এক বড় ঝড়, পাঁচ বছর ধরে চলা এক তদন্তে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর এক কেলেঙ্কারি, যা কাঁপিয়ে দিয়েছে দেশটির ফুটবল অঙ্গন।

তদন্তে দেখা গেছে, তুরস্কের মোট ৫৭১ জন ম্যাচ কর্মকর্তার মধ্যে ৩৭১ জনেরই বেটিং অ্যাকাউন্ট রয়েছে, তাদের মধ্যে ১৫২ জন সক্রিয়ভাবে জুয়ায় অংশ নিতেন। কেউ কেউ একবার বাজি ধরলেও, কেউ কেউ এক হাজারেরও বেশি ম্যাচে বাজি ধরেছেন। এমনকি একজন কর্মকর্তা ১৮ হাজার ২২৭টি বাজি ধরেছেন বলেও প্রমাণ মিলেছে। এই ঘটনায় কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে তুরস্ক ফুটবল ফেডারেশন (টিএফএফ)। জুয়া কার্যক্রমে জড়িত থাকার দায়ে ১৪৯ জন রেফারি ও সহকারী রেফারিকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী, তাদের আট থেকে বারো মাস পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। আরও তিনজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত এখনো চলছে।

টিএফএফ সভাপতি ইব্রাহিম হাসিওসমানোগলু বলেছেন, তুরস্কের ফুটবলে এখন নৈতিক সংকট চলছে, কাঠামোগত দুর্বলতার কারণেই এমন ঘটনা ঘটছে। তবে বেতনের অভাব কোনো অজুহাত নয়, বরং আমরা বেতন বাড়িয়েছি গত বছরও, এই বছরও। তবুও এমন ঘটনা লজ্জাজনক। এই ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে দেশের বড় ক্লাবগুলোও। বেসিকতাস বলেছে, এটি পরিচ্ছন্ন ফুটবলের নতুন সূচনা হতে পারে।” ট্রাবজোনস্পোরের মতে, এটি ন্যায়বিচার ফিরিয়ে আনার ঐতিহাসিক সুযোগ।” আর ফেনারবাচের সভাপতি বলেছেন, এটি যেমন মর্মান্তিক, তেমনি আশাব্যঞ্জকও, কারণ অন্তত সত্যটা প্রকাশ পাচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই কেলেঙ্কারি শুধু রেফারিদের নয়, পুরো তুর্কি ফুটবল ব্যবস্থার নৈতিক ভাঙনের প্রতিফলন। এখন দেখার বিষয়, এই সংকট পেরিয়ে তুরস্ক আবারও কি পরিচ্ছন্ন ও বিশ্বাসযোগ্য ফুটবলে ফিরতে পারে।

Google search engine