Google search engine

মোঃ লিমন শাহরিয়ার:

জাহানারা আলম একসময় ছিলেন বাংলাদেশ নারী ক্রিকেটের উজ্জ্বল মুখ, দলের সাবেক অধিনায়ক। বল হাতে ছিলেন ধারালো, নেতৃত্বেও ছিলেন দৃঢ়। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বদলে যায় দৃশ্যপট। একসময় দল থেকে দূরে সরে যান, স্বেচ্ছায় নির্বাসনে চলে যান এক বছরেরও বেশি সময়। পরে ফিরে এলেও বেশিদিন থাকতে পারেননি। শেষমেশ দেশ ছেড়ে পাড়ি জমান অস্ট্রেলিয়ায়।

অস্ট্রেলিয়া থেকেই সম্প্রতি এক জাতীয় দৈনিককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিস্ফোরক সব অভিযোগ করেন জাহানারা। দলের কোচ, ম্যানেজার, ফিজিও, এমনকি অধিনায়ক ও কয়েকজন ক্রিকেটারের বিরুদ্ধেও অসদাচরণের অভিযোগ তোলেন তিনি। অভিযোগে ছিলেন কড়া! আর বলেন, তার সঙ্গে আচরণ ছিল অপমানজনক, এবং কিছু ঘটনার মধ্যে যৌন হেনস্তার ইঙ্গিতও দিয়েছেন।

সাক্ষাৎকার প্রকাশের পর চুপ থাকেনি বিসিবি। এক বিবৃতিতে বোর্ড জানায়, এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন, মনগড়া এবং মিথ্যা। তারা বলেছে, কোনো প্রমাণ মেলেনি যা এসব অভিযোগকে সমর্থন করে। বরং বিসিবি নারী দলের ম্যানেজমেন্ট, খেলোয়াড় ও নেতৃত্বের প্রতি পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করে।

কিন্তু জাহানারা যখন পরবর্তীতে এক ক্রীড়া সাংবাদিককে ভিডিও সাক্ষাৎকারে আরও বিস্তারিতভাবে যৌন হেনস্তার অভিযোগ তুলে ধরেন, তখন ব্যাপারটি নতুন মোড় নেয়। বিষয়টি এবার আর হালকাভাবে নেয়নি বিসিবি। তারা জানায়, অভিযোগটি অত্যন্ত সংবেদনশীল, তাই তদন্তের জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে।

বিসিবির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এই তদন্ত কমিটি আগামী ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন ও সুপারিশ জমা দেবে। বোর্ড প্রতিশ্রুতি দিয়েছে খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের জন্য নিরাপদ, সম্মানজনক এবং পেশাদার পরিবেশ নিশ্চিত করা তাদের দায়িত্ব। অভিযোগ প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

একইসঙ্গে বিসিবি সবাইকে সতর্ক করেছে, তদন্ত চলাকালীন সময়ে যেন কেউ অনুমাননির্ভর মন্তব্য বা প্রতিবেদন না করে। কারণ এতে তদন্ত প্রক্রিয়ায় প্রভাব পড়তে পারে।

একদিকে জাহানারা আলমের সাহসী মুখ খুলে বলার ঘটনা আলোচনায়, অন্যদিকে বিসিবির তদন্ত প্রক্রিয়া নজরে। এখন ক্রিকেটপ্রেমীরা অপেক্ষায় অভিযোগের সত্যতা কোথায় পৌঁছায়, আর বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ কোন পথে এগোয়।

Google search engine