Google search engine

ব্যাটের হাতলে টেস্ট ক্যাপ ঝুলিয়ে একটি ছবি শনিবার ফেসবুকে পোস্ট করেন মুশফিকুর রহিম। রং চটা খাকি ক্যাপ। ক্যাপটির বয়স ২০ বছরের কিছুটা বেশি। ২০০৫ সালের ২৬ মে লর্ডস টেস্টে উইকেটরক্ষক এ ব্যাটারের মাথায় উঠেছিল ক্যাপটি। যেটি পরে ৯৮টি টেস্ট ম্যাচ খেলেছেন। সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে কাল থেকে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে যে টেস্ট ম্যাচ মাঠে গড়াবে, ওই ম্যাচেও রং হারানো ক্যাপ পরেই ফিল্ডিং করতে নামবেন তিনি। কারণ এ ক্যাপ মুশফিকুর রহিমের দুই যুগের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের নীরব সঙ্গী ও উত্থান-পতনের সাক্ষী।

জাতীয় দলের অভিজ্ঞ এ ব্যাটার তাই তো ফেসবুক পোস্টের ক্যাপশনে লিখেছিলেন– ‘সকল উত্থান-পতনের সঙ্গী’…। ভালোবাসার টেস্ট ক্রিকেটে মুশফিক শততম ম্যাচ খেলার অপেক্ষায়। কাল হবে ৯৯, মিরপুরে ১০০! দেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে এ কৃতিত্বে গর্বিত হবেন তিনি। আর সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হবে প্রিয় টেস্ট ক্যাপ।

অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে এই জায়গায় এসেছেন মুশফিক। টি২০, ওয়ানডে ক্রিকেট ছেড়ে টেস্ট ক্রিকেটের মায়ার বাঁধনে পড়ে আছেন এখনও। তাঁর প্রতি পদক্ষেপে লেখা রয়েছে অধ্যবসায় ও পরিশ্রমের গল্প। একদিন সমালোচনার জবাবে আবেগঘন এক স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছিলেন, ‘সবাই যখন ঘুমায় আমি তখন মিরপুরে।’

এ নিয়ে ফেসবুকে শোরগোল পড়ে গেলেও ৩৮ বছর বয়সী মুশফিকের নিবেদনে কোনো খাদ নেই। বেশির ভাগ সময় তাঁর ভোর হয় মিরপুরের হোম অব ক্রিকেট শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে। এই মাঠের জন্মলগ্ন থেকে যে কিউরেটর ছিলেন, সেই বদিউল আলম খোকনের কাছে মুশফিক রীতিমতো বিস্ময়। সমকালকে তিনি বলেন, ‘প্রথম থেকেই দেখছি সব সময় প্র্যাকটিসে ডুবে থাকে। একা একা প্র্যাকটিস করে। ওর (মুশফিকুর রহিম) সঙ্গের সবাই অবসরে চলে গেছে। ও লড়াই করে যাচ্ছে। শততম টেস্ট খেলবে। এই বয়সে ওর যে নিবেদন– সব সময় কিছু করার চেষ্টা থাকে। আমি ওকে দেখি আর অবাক হই। সুস্থ থাকলে এই মিরপুরেই ১০০তম টেস্ট ম্যাচ খেলবে মুশফিক। এ জন্য গত তিন মাসে অনেক পরিশ্রম করেছে। কাকডাকা ভোরে এসে অনুশীলন করেছে। মাঝে দুই দিন মাঠ ব্যস্ত থাকায় অনুশীলনের সুযোগ ছিল না। তখনও বিরতি দেয়নি, অনুশীলন করেছে মাঠ ভাড়া করে। এই দেশের ক্রিকেটারদের জন্য প্রেরণার নাম হতে পারে মুশফিক।

এই প্রজন্মের অনেক ক্রিকেটার লর্ডসে টেস্ট খেলার সুযোগ পাননি। ক্রিকেটের ‘তীর্থখ্যাত’ লর্ডসে মুশফিকের টেস্ট অভিষেক। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ক্যারিয়ারের প্রথম ম্যাচে আলো ছড়াতে পারেননি। ১৯ ও ৩ রান করেছিলেন ব্যাট হাতে। সে সময়ের প্রধান নির্বাচক ফারুক আহমেদ আবিষ্কার করেছিলেন উইকেটরক্ষক এ ব্যাটারকে। আইরিশদের বিপক্ষে শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের প্রেসিডেন্ট বক্সে বসে মুশফিকের শততম টেস্ট ম্যাচে দেখতে নস্টালজিয়ায় ডুবে যেতে পারেন ফারুক। মুশফিকের অধিনায়ক হাবিবুল বাশারও হয়তো স্মৃতিকাতর হবেন দেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে ৯৯ ও ১০০তম টেস্ট ম্যাচ খেলতে দেখে। মুশফিকের মাথায় রংচটা ক্যাপ রোমাঞ্চিত করতে পারে তাঁকে। কারণ তিনিই ২০ বছর আগে এই ক্যাপ মুশফিকের মাথায় পরিয়ে দিয়েছিলেন।

স্মৃতির অ্যালবামের জমে থাকা ধূলি ঝেড়ে মুশফিক ৯৯ শতাংশ নিশ্চিত হলেন অধিনায়ক হাবিবুল বাশারের হাত থেকে নিয়েছিলেন টেস্ট ক্যাপ। বাশারকে গতকাল এ কথা মনে করিয়ে দিতেই রোমাঞ্চিত হলেন, ‘ওয়াও। দেশের দুজন কিংবদন্তিকে টেস্ট ক্যাপ পরিয়েছি– মুশফিকুর রহিম ও সাকিব আল হাসানকে।’

Google search engine