
চোখে মোটা ফ্রেমের চশমা, মুখে শান্ত স্থিরতা দেখলে মনে হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো মেধাবী ছাত্রী। কিন্তু তীর-ধনুক হাতে নিলেই তিনি যেন বদলে যান। সেই শান্ত মেয়ে বন্যা আক্তারই এশিয়ান আর্চারি চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশকে এনে দিলেন কম্পাউন্ড মিশ্র ইভেন্টের রুপা।
ফরিদপুরের সাধারণ এক পরিবারের মেয়ে বন্যা বাবা-মা, এক ভাই, তিন বোন মিলে সাতজনের সংসার। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম ধাক্কা তাকে জীবনের অনেক আগেই বড় করে দেয়। ২০২১ সালে বাবা ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে অচল হয়ে পড়েন। বড় বোন সংসার করেন নিজ বাড়িতে। ফলে পরিবারের হাল ধরার দায়িত্ব এসে পড়ে বন্যার কাঁধে একেবারে একার ওপর।
একসময় বাংলাদেশ আনসারে চাকরি করলেও এখন তিনি বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর চুক্তিভিত্তিক খেলোয়াড়। নিজের ঘামেই চালান সংসার আর সেই জীবন লড়াইয়ের মধ্যেই গড়ে ওঠে তার লক্ষ্য, তার ধৈর্য, তার সাফল্য।
এশিয়ান মঞ্চে ৯ বছরের ক্যারিয়ারের প্রথম পদক আর সেটাই রুপা! ম্যাচ শেষে বন্যার কণ্ঠে ছিল স্বস্তি আর লুকানো আবেগ,
শুরুর দিকে অনেক প্রেশার ছিল। এমন বড় প্রতিযোগিতায় প্রথমবার খেলছি বলে নার্ভাস লাগছিল।
দেশে কম্পাউন্ড ইভেন্টে অবহেলার কথা বলতেও ভোলেননি তিনি…
আমাদের ইভেন্ট সবসময়ই অবহেলিত। কালও বলেছিলাম এবার দেখিয়ে দেব। এটাই আমার সেরা রেজাল্ট।
সংসারের দায়িত্ব যেন তার কাছে বোঝা নয়, বরং গর্বের,
“মেয়ে হয়েও বাবাকে আর্থিকভাবে সাহায্য করতে পারছি – এটাই আমার গর্ব।
২০২৮ অলিম্পিকে প্রথমবারের মতো যুক্ত হচ্ছে কম্পাউন্ড মিশ্র ইভেন্ট। আর সেই স্বপ্নেই চোখ ভেজে বন্যার…
একদিন বাংলাদেশ সরাসরি অলিম্পিকে কোয়ালিফাই করবে। আমি সেই দলের অংশ হতে চাই।
বন্যা শুধু তীর ছোড়েন না, ছোঁড়েন স্বপ্ন, লড়াই আর বেঁচে থাকার গল্প। তাঁর রুপার ঝলক শুধু সাফল্যের নয়, তা এক অবিচল ইচ্ছাশক্তির প্রতিচ্ছবি।




