
ইউরোপ অঞ্চলের বিশ্বকাপ বাছাই যত এগোচ্ছে, ততই বাড়ছে উত্তেজনার তাপমাত্রা। গত রাতটায় যেন পুরো মহাদেশ শ্বাসরুদ্ধ হয়ে ফুটবল দেখেছে। কারণ, সবাই অপেক্ষায় ছিল কে নিশ্চিত করছে বিশ্বকাপ, আর কে পিছিয়ে পড়ছে শেষ মুহূর্তে। আর সেই আলোয়ার পথে সবচেয়ে বেশি আলো কে কাড়ল? ক্রোয়েশিয়া।
ফারো আইল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের শুরুটা ক্রোয়েশিয়ার জন্য মোটেও সুখকর ছিল না। ঘরের মাঠে খেলেও প্রথম গোলটা হজম করতে হয় তাদের। সমর্থকদের মুখে তখন নিঃশব্দ হতাশা। কিন্তু ওয়ালভারিনরা কখনোই মাথা নিচু করে দাঁড়ায় না। বিয়েলো-ক্রভেনিরা যেন বুঝিয়ে দিল, এক গোল তাদের থামানোর নয়।
ইওস্কো গাভারদিওল সেনাবাহিনীর জেনারেলের মতো উঠে দাঁড়িয়ে ম্যাচে ফেরালেন দলকে। তার গোলে সমতা, আর এরপর মাঠে নেমে আসে আসল ক্রোয়াট ঝড়। পিটার মুসা ও নিকোলা ভালসিকের নিখুঁত গোল দুইয়ে ম্যাচ পুরোই উল্টে দেন তারা। শেষ বাঁশিতে স্কোরবোর্ডে লেখা ৩–১। আর সেই সঙ্গেই ক্রোয়েশিয়ার নাম উঠে যায় বিশ্বকাপের নিশ্চিত দলগুলোর তালিকায়।
ফারো আইল্যান্ডের সব আশা শেষ, আর ক্রোয়েশিয়া আবারও দেখাল তাদের অবমূল্যায়ন করলে শাস্তি পেতেই হবে।
এদিকে ওয়ারশতে পোল্যান্ডের মাঠে আরেক নাটক। প্রথমার্ধের শেষ দিকে কামিনস্কির গোল পুরো স্টেডিয়ামকে উল্লাসে মাতিয়ে দিলেও দ্বিতীয়ার্ধে এসে মেমফিস ডিপাই সেই আনন্দে ছুরি বসিয়ে দেন। তার গোলেই নেদারল্যান্ডস ১–১ ড্র নিশ্চিত করে। পয়েন্টে শীর্ষে তারা, আর লিথুনিয়ার বিপক্ষে শেষ ম্যাচটা এখন প্রায় আনুষ্ঠানিকই বলা চলে।
জার্মানির রাতটা ততটা রঙিন ছিল না। লুক্সেমবার্গকে ২–০ হারিয়েও স্বস্তিতে নেই দলটি। কারণ অন্য ম্যাচের ফল এখনো তাদের ভাগ্য নির্ধারণ করবে। স্লোভাকিয়ার জয়ে পথটা আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে ডাই মানশ্যাফটের জন্য।
ম্যাচ শেষে গাভারদিওলের কণ্ঠে গর্বের সুর ছিল স্পষ্ট,
“আমরা লক্ষ্য অর্জন করেছি। বিশ্বকাপ নিশ্চিত এটাই সবচেয়ে বড় কথা। শেষ ম্যাচটা এখন আর চাপের না, বরং দায়িত্ববোধের।
ইউরোপের বাছাইয়ের মঞ্চ এখন যেন যুদ্ধক্ষেত্র। প্রতিটি গোল, প্রতিটি ড্র, প্রতিটি হার সবই বদলে দিচ্ছে ভাগ্যের দিশা। আর এই লড়াইয়ের মাঝে সবচেয়ে জ্বলজ্বলে নামটি এখনো একই ক্রোয়েশিয়া।




