
জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার ইমরুল কায়েস বর্তমানে তার নিজ এলাকা মেহেরপুরের উজলপুর ডাকঘরের কর্মচারী হিসেবে নিয়োজিত থাকার খবর সম্প্রতি দেশের গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। ক্রিকেটার কায়েসকে উজলপুর ডাকঘরের ইডিএ (Extra Departmental Agent) পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যার মাসিক সম্মানী মাত্র ৪ হাজার ৪৯০ টাকা। বিভাগীয় ডাক পরিদর্শক অলক কুমার বিশ্বাস জানিয়েছেন, ২০২১ সালে তৎকালীন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেনের ডিও (ডিও লেটার) অনুযায়ী তাকে এই পদে নিয়োগ দেওয়া হয় এবং এটি কোনো লাভজনক পদ নয়। ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়ে বর্তমানে কোচিংয়ে মনোযোগ দেওয়া এই তারকা ক্রিকেটার আসন্ন বিপিএলে সিলেটের ব্যাটিং কোচ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করবেন। খেলার পাশাপাশি তিনি নিজের ক্রিকেট একাডেমি এবং দেশের প্রথম ব্যাট প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান এমকেএস-এর মালিক হিসেবে ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডেও ব্যস্ত।
তবে এই খবরের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ডাকঘরের কার্যক্রম নিয়ে বিতর্ক। সম্প্রতি উজলপুর গ্রামে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ চিঠি ও নথিপত্র প্রাপকের কাছে না পৌঁছে ফেরত যাওয়ার ঘটনা ঘটছে। যেমন, ফয়সাল নামের এক ব্যক্তির যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার ভিসা সংক্রান্ত কাগজ তিনি পাননি, যা পরে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরত যায়। এই অনিয়মের প্রেক্ষাপটে ইমরুল কায়েসের ডাকঘরের যোগসূত্র সামনে আসে। ডাকঘরের সঙ্গে যুক্ত থাকার বিষয়টি ইমরুল কায়েস স্বীকার করেছেন। তবে তিনি ব্যাখ্যা দিয়েছেন যে গ্রাম পোস্ট মাস্টারদের কাজ চিঠি বিলি করা নয়। তার ভাষ্যমতে, বাংলাদেশের ডাক বিভাগের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়াতে পোস্ট অফিসের অনুরোধে তিনি তাদের সঙ্গে নিজের নামটি যুক্ত করেছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের চিঠি ফেরত যাওয়ার ঘটনাটিকে পোস্টম্যানের ভুল বলে উল্লেখ করেছেন, তার নয়। তিনি আরও জানান, ইডিএ আব্দুল জলিল বর্তমানে ওমরাহ করতে সৌদি আরব অবস্থান করছেন এবং দেশে ফিরলেই এই সমস্যার সমাধান করবেন।
ইমরুল কায়েসের ক্রিকেট ও ব্যবসায়িক ব্যস্ততার পাশাপাশি স্বল্প বেতনের সরকারি পদে যুক্ত থাকা এবং একই সঙ্গে ডাকঘরের সেবায় অনিয়মের অভিযোগ—সব মিলিয়ে বিষয়টি বর্তমানে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।




