
নারী ক্রিকেটারদের বক্তব্যে দেশজুড়ে আলোচনায় এসেছে ক্রীড়াঙ্গনে যৌন হয়রানির বাস্তবতা। মাঠের বাইরে এই ঝড় থামাতে এবার সরাসরি উদ্যোগ নিল সরকার। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) নির্দেশ দিয়েছে—অধিভুক্ত প্রতিটি ৫২টি ফেডারেশন ও অ্যাসোসিয়েশনকে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে ৫ সদস্যের অভিযোগ গ্রহণ কমিটি গঠন করতে হবে। ১৯ নভেম্বরের মধ্যেই এই কমিটির তালিকা জমা দিতে হবে এনএসসিতে।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে প্রতিটি কমিটিতে কমপক্ষে তিনজন নারী সদস্য রাখতে হবে। নির্দেশনায় স্বাক্ষর করেছেন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সহকারী পরিচালক (ক্রীড়া) মো. রুহুল আমিন।
এই উদ্যোগ এসেছে হাইকোর্টের ২০০৯ সালের ঐতিহাসিক নির্দেশনার আলোকে, যেখানে কর্মক্ষেত্রে ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে নীতিমালা বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল। সেই নীতিমালাকে অনুসরণ করেই এবার ক্রীড়াঙ্গনে আনুষ্ঠানিক কাঠামো দাঁড় করানোর চেষ্টা।
তবে এর মধ্যেই সমালোচনা উঠেছে ক্রীড়া মহল থেকে। কমনওয়েলথ ও এসএ গেমসের স্বর্ণজয়ী শুটার শারমিন রত্না এই সিদ্ধান্তকে স্পষ্টভাবে “হাস্যকর” বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর কথায়…
ফেডারেশনের অনেক জায়গার দায়িত্বরত কর্মকর্তারাই তো অনেক সময় অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দু। তাহলে সেই ফেডারেশনের অধীনেই আবার কমিটি? একজন অ্যাথলেট অভিযোগ করলে তাকেই বরং চিহ্নিত করা হবে! এটা কার্যকর কোনো সমাধান নয়।
একদিকে সরকারের কঠোর নির্দেশনা, অন্যদিকে অ্যাথলেটদের সংশয়
বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে যৌন হয়রানি মোকাবিলা কি সত্যিই শুরু হলো, নাকি এটি শুধু কাগুজে সমাধান হয়ে থাকবে, এখন নজর সেদিকেই।




