Google search engine

একেবারে হেসে-খেলে জয়! পাত্তাই পেলো না প্রতিপক্ষ। আয়ারল্যান্ডের শেষভাগের লড়াই কিছুক্ষণ দেখা মিললেও শেষ পর্যন্ত থামতে হয়েছে বাংলাদেশের স্পিন জালের সামনে। সিলেটে দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্টে ইনিংস ও ৪৭ রানের বড় জয়ে এগিয়ে গেছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। সকালে যে প্রতিরোধের ঝাঁঝে মনে হয়েছিল ম্যাচটি হয়তো দীর্ঘ লড়াইয়ের দিকে যাবে, লাঞ্চের পর বাংলাদেশের বোলাররা সেই সম্ভাবনাটাই নিভিয়ে দেন দ্রুতই।

দিন শুরু হয়েছিল আয়ারল্যান্ডের ৫ উইকেটে ৮৬ রান নিয়ে। প্রথম সেশনে ব্যাট হাতে দারুণ ছিলেন অ্যান্ডি ম্যাকব্রাইন-অভিজ্ঞতা ও ধৈর্যের মিশেলে তুলে নিয়েছেন ফিফটি। তার সঙ্গে কিছুটা সময় ব্যাট করেছেন অ্যান্ডি বালবির্নিও; ৩৮ রানের লড়াকু ইনিংসে স্পিনারদের চাপে রেখেছিলেন। লাঞ্চে ১৯৮ রান তুলতে পারা আইরিশরা তখনও টিকে থাকার আশা দেখছিল। কিন্তু বিরতি থেকে ফিরে সেই আশাই ধসে পড়ে।

লাঞ্চের পরই নাহিদ রানা আঘাত হানেন ম্যাকব্রাইনের ওপর। ১০৬ বলে ৫২ রানের প্রতিরোধ থেমে যায় তার হাতে। এরপর জর্ডান নেইল ও ব্যারি ম্যাককার্থি মিলে আয়ারল্যান্ডকে আবার কিছুটা এগিয়ে দেন। দুটি দারুণ ইনিংস, নেইলের ৫৩ বলে ৩৬ এবং ম্যাককার্থির ২৭ বলে ২৫ রান-এগিয়ে নিতে থাকে অতিথিদের। ম্যাককার্থির ব্যাটে ছক্কা, চার, সবই আসে আগ্রাসী মেজাজে। কিন্তু সবকিছু মিলেও ইনিংস হারের ব্যবধান কাটানো সম্ভব হয়নি।

হাসান মুরাদ নেইলকে থামিয়ে দেন দলের ২৫২ রানে। পরের ওভারেই তাইজুল ইসলাম ম্যাককার্থিকে ক্যাচবিহাইন্ড করিয়ে ম্যাচের ইতি টানেন। শান্ত রিভিউ নিয়ে নিশ্চিত হন উইকেটের ব্যাপারে, আল্ট্রা এজ দেখিয়ে দেয় বল ব্যাট ছুঁয়েছিল। ২৫৪ রানে অলআউট হয়ে গেলে বাংলাদেশ ইনিংস ও ৪৭ রানের জয় নিশ্চিত করে।

আয়ারল্যান্ড দ্বিতীয় ইনিংসে মোট সংগ্রহ ২৫৪-এর আগে প্রথম ইনিংসে করেছিল ২৮৬। বাংলাদেশের বিশাল ৫৮৭ রান (৮ উইকেট ঘোষণা) তাই তাদের জন্য ছিল ধরাছোঁয়ার বাইরে। মুরাদ ৬০ রানে ৪ উইকেট, তাইজুল ৮৪ রানে ৩ উইকেট এবং নাহিদ রানার নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ২ উইকেট, এই ত্রয়ীর হাত ধরেই ম্যাচটি অল্প সময়েই গুটিয়ে যায়।

এটি বাংলাদেশের ২৪তম টেস্ট জয়, এবং ইনিংস ব্যবধানে চতুর্থ। সিরিজে ১-০ তে এগিয়ে এখন দলের সামনে ঢাকার মিরপুরে দ্বিতীয় টেস্ট-১৯ নভেম্বর শুরু হতে যাওয়া সেই ম্যাচটি আরও বিশেষ, কারণ সেটিই মুশফিকুর রহিমের ক্যারিয়ারের ১০০তম টেস্ট। সিরিজের পরবর্তী ম্যাচটি শুধু ফলাফলের নয়, ইতিহাসেরও সাক্ষী হতে চলেছে।

Google search engine