
কিংস্টন টেস্টের প্রথম দিনটা সাদমান-শাহাদাতের জুটির কল্যাণে শেষ হয়েছিলো দুই উইকেটে ৬৯-এ। প্রথম দিনটা বাংলাদেশের না হলেও, পুরোপুরি ওয়েস্ট ইন্ডিজেরও হতে দেয়নি এই জুটি। তবে দ্বিতীয় দিন শেষে ম্যাচে অনেকটা এগিয়ে গেছে ক্যারিবীয়ানরা।
৬৯/২ এ দ্বিতীয় দিন শুরু করতে এসে আগেরদিনের মত সতর্কই ছিলো সাদমান-শাহাদাত। তবে দিনের নবম ওভারে শামার জোসেফের বলের লাইন বুঝতে না পেরে শাহাদাত বোল্ড আউট হলে ৭৩ রানের তৃতীয় জুটি ভাঙ্গে, শাহাদাত আউট হন ৮৯ বলে ২২ করে। শাহাদাতের উইকেটের পর ছন্দপতন ঘটে বাংলাদেশের। ৮২/২ থেকে চোখের পলকেই বাংলাদেশের স্কোর দাঁড়ায় ৯৮/৬-এ। এই সময় ওপেনার সাদমান সহ লিটন ও জাকেরও আউট হলে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ।
সপ্তম উইকেটে অধিনায়ক মিরাজ এবং তাইজুলের জুটি কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করে। দুইজনের ৪১ রানের জুটি ভাঙলে ইনিংস শেষ হওয়া কেবল সময়ের ব্যবধান ছিল। বল হাতে ক্যারিবিয়ানদের হয়ে এদিন রেকর্ড করেছেন পেসার জেয়ডেন সিলস, ১৫.৫ ওভার বল করে ১০ টি মেইডেন নিয়ে ৫ রান নিয়ে ৪ উইকেট নিয়েছেন সিলস। একবিংশ শতকে ১৫ ওভারের বেশি বল করে ৫ বা তার কম রান দেওয়া বোলারটা এখন তিনি। অবশ্য ক্রিকেট ইতিহাসে সিলসের চেয়ে বেশি ওভার করে একজন ৫ রান দিয়েছেন, তিনি ভারতের রমেশচন্দ্র নাদকারনি, ১৯৬৪ সালে এই বাঁহাতি স্পিনার ৩২ ওভার বল করে ৫ রান দিয়েছিলেন। সিলসের রেকর্ডময় বোলিংয়ের তোপে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ অল-আউট হয় ১৬৪ রানে, দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৬৪ রান করেন সাদমান, মিরাজ করেন দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩৬।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ তাদের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশের দুই পেসার হাসান ও তাসকিনকে দেখেশুনে খেলে বেশ ভালোই খেলছিলেন। উইকেটশূন্য থেকে টি ব্রেকে যায় ক্যারিবিয়ানরা। তবে টি এর পরপরই নাহিদ রানার গতির তোপে পড়ে ভাঙে ২৫ রানের ওপেনিং জুটি। ১৪৭ কি.মি./ঘণ্টার গতি বলে মিকাইল লুইকে আউট করার ওভারে তিনটি ১৫০ কি.মি./ঘণ্টার বল করেন নাহিদ। এরপরই দ্বিতীয় উইকেট জুটি বাঁধেন অধিনায়ক ক্রেইগ ব্রেইথওয়েইট ও কেসি কার্টি। ব্যক্তিগত ২৬ রানের মাথায় তাইজুলের বলে ক্রেইগ সুযোগ দিলেও, তা তালুবন্দী করতে ব্যর্থ হয় মিরাজ। দিনের শেষভাগে তাইজুল, নাহিদরা দুর্দান্ত বল করলেও দুর্ভাগ্যজনকভাবে উইকেট আদায় করতে ব্যর্থ হয়, আম্পায়ার আউট দিলেও রিভিউ নিয়ে মিরাজের বলে বেঁচে যান ক্রেইগও। ক্যারিবিয়ান দুই টপ অর্ডার দেখে শুনে শেষ করলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দিন শেষ করে ৩৭ ওভারে ৭০/১ এ।
