
বিশ্বকাপের শুরুটা যেমন হওয়ার কথা ছিল, তেমন হয়নি ব্রাজিলের। মরক্কোর বিপক্ষে ড্র করে সমালোচনার মুখে পড়েছে কার্লো আনচেলত্তির দল। ফলে হাইতির বিপক্ষে ম্যাচটি এখন শুধুই তিন পয়েন্টের লড়াই নয়, বরং আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ারও মঞ্চ। আরেকটি হোঁচট ব্রাজিলকে গ্রুপ পর্বেই অস্বস্তিকর সমীকরণের সামনে দাঁড় করিয়ে দিতে পারে।
বাংলাদেশ সময় শনিবার সকালে ফিলাডেলফিয়ার লিংকন ফাইন্যান্সিয়াল ফিল্ডে মুখোমুখি হবে দুই দল। এক ম্যাচ শেষে ‘সি’ গ্রুপে ১ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে ব্রাজিল। অন্যদিকে স্কটল্যান্ডের কাছে হেরে পয়েন্টশূন্য হাইতি রয়েছে গ্রুপের তলানিতে।
মরক্কোর বিপক্ষে ব্রাজিলকে রক্ষা করেছিলেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। তার দুর্দান্ত এক মুহূর্তের ঝলকেই পরাজয় এড়ায় সেলেসাওরা। তবে পুরো ম্যাচে আক্রমণে ধারাবাহিকতা এবং সৃজনশীলতার অভাব ছিল স্পষ্ট। বিশেষ করে ক্লাব ফুটবলে দুর্দান্ত মৌসুম কাটিয়ে আসা রাফিনিয়া এখনও বিশ্বকাপে নিজের সেরাটা দেখাতে পারেননি।
প্রথম ম্যাচের পর ব্রাজিলের একাদশ নিয়েও ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। ফলে হাইতির বিপক্ষে কয়েকটি পরিবর্তন আনতে পারেন আনচেলত্তি। আক্রমণভাগে হতাশ করা ইগর থিয়াগোর জায়গায় সুযোগ পেতে পারেন তরুণ সেনসেশন এন্দ্রিক। মরক্কোর বিপক্ষে বেঞ্চে বসে পুরো ম্যাচ কাটিয়েছিলেন তিনি।
মিডফিল্ডেও পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। লুকাস পাকেতার জায়গায় দেখা যেতে পারে মাতেউস কুনিয়াকে। আবার কুনিয়া চাইলে আক্রমণভাগেও খেলতে পারেন। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়তো মাঝমাঠে। ব্রুনো গিমারেসের জায়গা প্রায় নিশ্চিত হলেও মরক্কোর বিপক্ষে অভিজ্ঞ কাসেমিরোর পারফরম্যান্স সন্তুষ্ট করতে পারেনি কোচকে। দ্বিতীয়ার্ধে তার পরিবর্তে নেমেছিলেন ফাবিনিও, আর এবার শুরু থেকেই মাঠে দেখা যেতে পারে তাকে।
অবশ্য প্রতিপক্ষকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই বলে বারবার সতর্ক করা হয়েছে ব্রাজিল শিবিরে। কাগজে-কলমে বিশাল ব্যবধান থাকলেও এবারের বিশ্বকাপ ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি অঘটনের সাক্ষী হয়েছে। স্পেনকে গোলশূন্য ড্রয়ে আটকে দেওয়া কেপ ভার্দের উদাহরণ এখনও টাটকা।
তবে ইতিহাস ব্রাজিলের পক্ষেই কথা বলছে। এর আগে তিনবার মুখোমুখি হয়েছে দুই দল, তিনবারই জয় পেয়েছে ব্রাজিল। সেই তিন ম্যাচে ১৭ গোল করেছে সেলেসাওরা, হজম করেছে মাত্র একটি। দুই দলের একমাত্র প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ হয়েছিল ২০১৬ কোপা আমেরিকায়, যেখানে হাইতিকে ৭-১ গোলে বিধ্বস্ত করেছিল ব্রাজিল।এদিকে সমর্থকদের জন্য দুঃসংবাদ, নেইমার এখনও মাঠে ফেরার মতো অবস্থায় নেই। কাফের চোট কাটিয়ে সম্প্রতি অনুশীলনে ফিরলেও গ্রুপ পর্বের বাকি ম্যাচগুলোতেও তাকে মাঠে দেখার সম্ভাবনা ক্ষীণ।




